ডিপফেক বিতর্কে কাঠগড়ায় গ্রোক, ইলনের সন্তানের মায়ের মামলা
প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’ এবার ব্যক্তিগত ও আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছে। মাস্কের ১৬ মাস বয়সী পুত্র রোমুলাসের মা এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার অভিযোগ করেছেন, গ্রোক ব্যবহার করে তাঁর কোন সম্মতি ছাড়াই বিকৃত যৌনতাপূর্ণ ডিজিটাল ছবি তৈরি করা হচ্ছে। যার বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটিতে তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন।
হুমকি ও আইনি নোটিশ মামলাটি এমন এক সময়ে করা হয়েছে যখন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এক্স আই কোম্পানিকে একটি আইনি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে গ্রোকের মাধ্যমে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বা আপত্তিকর ছবি তৈরি ও প্রচার অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
রব বোন্টা শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, নারী ও শিশুদের ওপর এই ধরনের যৌন বিকৃত উপাদানের যে পাহাড়সম রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে, তা কেবল উদ্বেগজনকই নয়, সম্ভবত অবৈধও বটে।
সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, গত বছর এই ছবিগুলো সামনে আসার পর তিনি তা মুছে ফেলার জন্য মাস্কের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সকে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু প্ল্যাটফর্মটি শুরুতে জানিয়েছিল, এসব ছবি তাদের নীতি লঙ্ঘন করে না।
পরবর্তীতে তারা ছবিগুলো সরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত ক্লেয়ারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেয়। তার এক্স প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং ভেরিফিকেশন টিক চিহ্ন সরিয়ে দেয়া হয়, অথচ তার কুরুচিপূর্ণ বিকৃত ছবিগুলো প্রচার হতে দেয়া হয়।
ক্লেয়ার বলেন, আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। গ্রোক যতক্ষণ এই ছবিগুলো তৈরি করতে থাকবে, আমার এই দুঃস্বপ্ন শেষ হবে না।
এদিকে, মামলার প্রতিক্রিয়ায় এক্স আই পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। টেক্সাসের একটি আদালতে তারা সেন্ট ক্লেয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের দাবি, ক্লেয়ার কোম্পানির ইউজার এগ্রিমেন্ট বা ব্যবহারের শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছেন, যেখানে বলা ছিল কোনো আইনি লড়াই শুধু টেক্সাসেরআদালতেই হতে পারবে।
ক্লেয়ারের আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ এই পাল্টা মামলাকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, নারীদের সম্মতি ছাড়া তাদের নগ্ন ছবি তৈরি করার সুযোগ দিয়ে এক্স এআই এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উপদ্রব এবং অনিরাপদ পণ্যে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া গ্রোকের এই ডিপফেক কেলেঙ্কারি কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ফিলিপাইনসহ বিশ্বের অনেক দেশে এটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার জাপানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা গ্রোকের এই আপত্তিকর ছবি তৈরির সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।